মধ্যযুগের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে কালকেতুর স্ত্রী ফুল্লরার দৈনন্দিন রান্নার যা বর্ণনা পাওয়া যায় বা ‘অন্নদামঙ্গল’-এ মাছবৃত্তান্ত পড়লে বোঝা যায়, সেই কোন কাল থেকে যুক্ত বঙ্গের গৃহস্থালী বা সংস্কৃতির সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে মাছ। রুই-কাতলা, শোল-বোয়ালের সঙ্গে তেলাপিয়া মাছের কদরও কম নয়। মাছে-ভাতে বাঙালি রুই-কাতলা বা ইলিশের মতো কুলীন মাছের যেমন কদর করেছে, তেমন তেলাপিয়াকেও ব্রাত্য করেনি। মধ্যবিত্তের হেঁশেলে এ মাছের যাতায়াত নিত্য। দামে কম, তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে, এ হেন তেলাপিয়াও কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানেও ইতিহাসে পরিচিতি পেতে চলেছে। তেলাপিয়ার ছাল, যা ফেলে দেওয়া হত এত দিন, তা দিয়েই এখন কাটাছেঁড়া বা পোড়ার ক্ষত নিরাময়ের চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। পুড়ে যাওয়া চামড়া প্রতিস্থাপনের সুযোগ যদি না থাকে, সেখানে বিকল্প হতে পারে তেলাপিয়ার ছাল। ব্রাজিলের ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অফ সিয়েরার গবেষকদের দাবি এমনই।
পুড়ে যাওয়া বা কেটে যাওয়ার ক্ষত যদি গভীর হয়, তা হলে সেই দগ্ধ চামড়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। অথবা ত্বকের ‘রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি’ করা হয়, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সরিয়ে সে জায়গায় সুস্থ কোষ প্রতিস্থাপন করে ক্ষত নিরাময়ের চেষ্টা হয়। এই ধরনের অস্ত্রোপচার সময়সাপেক্ষ, কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এবং খরচও অনেক। তাই বিকল্প উপায় হিসেবে গবেষকেরা বেছে নিয়েছেন তেলাপিয়া মাছের ছাল। কোনও রকম ওষুধ, অস্ত্রোপচার বা কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন হবে না। ত্বক প্রতিস্থাপনের জন্য দাতার অপেক্ষা করতেও হবে না। ক্ষতস্থানে সরাসরি লেপে দেওয়া হবে মাছের ছাল। সেটি ক্ষতিগ্রস্ত চামড়া আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে রাখবে। মাছের ছালে থাকা নানা উপাদান নতুন করে ত্বকের কোষ তৈরি করবে। অর্থাৎ, চামড়া প্রতিস্থাপন বা ‘স্কিন গ্রাফটিং’ হবে কোনও রকম অস্ত্রোপচার ছাড়াই।
কেন তেলাপিয়ার ছাল দিয়ে হচ্ছে ‘গ্রাফটিং’?
ব্রাজিল শুধু নয়, ইউনিভার্সিটি অফ মায়ামির মিলার স্কুল অফ মেডিসিন, ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার গবেষকেরাও তেলাপিয়ার ছাল দিয়ে ব্যান্ডেজ তৈরির চেষ্টা শুরু করেছেন। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কম খরচে ত্বক প্রতিস্থাপন বা ত্বকের কোষের পুনর্গঠনের জন্য তেলাপিয়ার চামড়াই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হচ্ছে। কারণ তেলাপিয়ার ছালে থাকে টাইপ-১ কোলাজেন যা ত্বকের কোষগুলির পুনর্গঠনে সাহায্য করে। দ্রুত ক্ষত নিরাময় করতে পারে।
তেলাপিয়ার ছালে প্রচুর পরিমাণে এমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যার জীবাণুরোধী ও প্রদাহনাশক গুণ রয়েছে। এটি ব্যবহার করলে ক্ষতস্থানে কোনও রকম সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
তেলাপিয়ার ছালে হরেক রকম অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে (যেমন অ্যালানিন ও প্রোলিন)যা ত্বকের কোষ ও কলার পুনরুৎপাদনে সহায়ক হতে পারে। তা ছাড়া তেলাপিয়ায় বিশেষ এক রকম পেপটাইড থাকে, যা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের দ্রুত নিরাময় করতে পারে।
কী ভাবে কাজ করে মাছের ছাল?
তেলাপিয়ার চামড়া আগে গবেষণাগারে জীবাণুমুক্ত করা হয়। তার পর সেটির প্রলেপ দেওয়া হয় ক্ষতস্থানে। ব্রাজিলে শতাধিক অগ্নিদগ্ধ রোগীর ত্বকে মাছের ছাল লাগিয়ে দেখা গিয়েছে, কম সময়ের মধ্যেই নতুন চামড়া গজিয়েছে তাঁদের। আর মাছের ছাল ব্যবহারের জন্য আলাদা করে ড্রেসিং করা বা ওষুধ লাগানোর প্রয়োজন হয়নি। ড্রেসিং বদলাতেও হয়নি। নতুন চামড়া গজানোর পরে মাছের ছালটি নিজে থেকেই খসে পড়েছে।
তবে সরাসরি মাছের ছালের বদলে তেলাপিয়ার চামড়া দিয়ে ব্যান্ডেজ তৈরির চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। তেমন হলে, বহু মানুষ সেটি ব্যবহার করার সুবিধা পাবেন।
পুড়ে যাওয়া বা কেটে যাওয়ার ক্ষত যদি গভীর হয়, তা হলে সেই দগ্ধ চামড়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। অথবা ত্বকের ‘রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি’ করা হয়, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সরিয়ে সে জায়গায় সুস্থ কোষ প্রতিস্থাপন করে ক্ষত নিরাময়ের চেষ্টা হয়। এই ধরনের অস্ত্রোপচার সময়সাপেক্ষ, কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এবং খরচও অনেক। তাই বিকল্প উপায় হিসেবে গবেষকেরা বেছে নিয়েছেন তেলাপিয়া মাছের ছাল। কোনও রকম ওষুধ, অস্ত্রোপচার বা কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন হবে না। ত্বক প্রতিস্থাপনের জন্য দাতার অপেক্ষা করতেও হবে না। ক্ষতস্থানে সরাসরি লেপে দেওয়া হবে মাছের ছাল। সেটি ক্ষতিগ্রস্ত চামড়া আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে রাখবে। মাছের ছালে থাকা নানা উপাদান নতুন করে ত্বকের কোষ তৈরি করবে। অর্থাৎ, চামড়া প্রতিস্থাপন বা ‘স্কিন গ্রাফটিং’ হবে কোনও রকম অস্ত্রোপচার ছাড়াই।
কেন তেলাপিয়ার ছাল দিয়ে হচ্ছে ‘গ্রাফটিং’?
ব্রাজিল শুধু নয়, ইউনিভার্সিটি অফ মায়ামির মিলার স্কুল অফ মেডিসিন, ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার গবেষকেরাও তেলাপিয়ার ছাল দিয়ে ব্যান্ডেজ তৈরির চেষ্টা শুরু করেছেন। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কম খরচে ত্বক প্রতিস্থাপন বা ত্বকের কোষের পুনর্গঠনের জন্য তেলাপিয়ার চামড়াই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হচ্ছে। কারণ তেলাপিয়ার ছালে থাকে টাইপ-১ কোলাজেন যা ত্বকের কোষগুলির পুনর্গঠনে সাহায্য করে। দ্রুত ক্ষত নিরাময় করতে পারে।
তেলাপিয়ার ছালে প্রচুর পরিমাণে এমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যার জীবাণুরোধী ও প্রদাহনাশক গুণ রয়েছে। এটি ব্যবহার করলে ক্ষতস্থানে কোনও রকম সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
তেলাপিয়ার ছালে হরেক রকম অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে (যেমন অ্যালানিন ও প্রোলিন)যা ত্বকের কোষ ও কলার পুনরুৎপাদনে সহায়ক হতে পারে। তা ছাড়া তেলাপিয়ায় বিশেষ এক রকম পেপটাইড থাকে, যা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের দ্রুত নিরাময় করতে পারে।
কী ভাবে কাজ করে মাছের ছাল?
তেলাপিয়ার চামড়া আগে গবেষণাগারে জীবাণুমুক্ত করা হয়। তার পর সেটির প্রলেপ দেওয়া হয় ক্ষতস্থানে। ব্রাজিলে শতাধিক অগ্নিদগ্ধ রোগীর ত্বকে মাছের ছাল লাগিয়ে দেখা গিয়েছে, কম সময়ের মধ্যেই নতুন চামড়া গজিয়েছে তাঁদের। আর মাছের ছাল ব্যবহারের জন্য আলাদা করে ড্রেসিং করা বা ওষুধ লাগানোর প্রয়োজন হয়নি। ড্রেসিং বদলাতেও হয়নি। নতুন চামড়া গজানোর পরে মাছের ছালটি নিজে থেকেই খসে পড়েছে।
তবে সরাসরি মাছের ছালের বদলে তেলাপিয়ার চামড়া দিয়ে ব্যান্ডেজ তৈরির চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। তেমন হলে, বহু মানুষ সেটি ব্যবহার করার সুবিধা পাবেন।
তুরজিম তানজিম